ক্রেডিট কার্ড কি? ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো

ক্রেডিট কার্ড কি? ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো

ক্রেডিট কার্ড কি?

ক্রেডিট কার্ড হলো স্ক্রাচ করার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত অর্থ ব্যবহার বা খরচ করতে পারবেন বা তুলতে পারবেন যে ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে। নির্দিষ্ট সময় পর টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিদ্যুৎ বিলের মত ধরে নিতে পারেন। ইহা পুরাই পোস্ট-পেইড সিমের মতো কাজ করে।

আজ আমরা আলোচনা করবো, ক্রেডিট কার্ড কি? ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম, ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা, কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো ও ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো ইত্যাদি বিষয় নিয়ে। ক্রেডিট কার্ড সাধারনত অনলাইন এবং অফলাইন দুই জায়গাতেই কাজ করে।

ক্রেডিট কার্ড কি?

একটি ক্রেডিট কার্ড হয় আয়তাকার। এর আকৃতি হয় মাঝারি ধরনের। এটি আইএসও / আইসিসি ৭৮১০ আইডি ১ এর আদর্শ মেনে চলে। কার্ডটির সামনে ও পেছনে উভয় দিকে কিছু তথ্য দেয়া থাকে।

ক্রেডিট কার্ড হচ্ছে এমন একটি মেথড যার সাহায্যে আপনি একটি ব্যাংক থেকে টাকা ধার করেন খরচ করার জন্য। এই ধার করা টাকার অ্যামাউন্টটিকেই মুলত ক্রেডিট কার্ডের “ক্রেডিট লিমিট” বলা হয়ে থাকে। আপনার মাসিক ইনকাম এর ওপরে বেজ করে আপনাকে ব্যাংক এই লিমিটটি দিয়ে থাকে।

পড়তে পারেন:-

যেমন- আপনার মাসিক ইনকাম যদি হয় ৫০ হাজার টাকা, তাহলে আপনি সাধারনত ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লিমিটের একটি ক্রেডিট কার্ড পেতে পারেন। তবে ক্রেডিট লিমিট কম-বেশি হতে পারে আপনি যে ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিচ্ছেন সেই ব্যাংকের পলিসি অনুযায়ী। তবে আপনি ক্রেডিট কার্ডের জন্য এলিজিবল হবেন কি না সেটাই একটা বড় প্রশ্ন।

সাধারনত আপনি যদি একজন মোটামুটি ভালো ইনকাম করা চাকুরিজীবী না হন, তাহলে ব্যাংক আপনাকে ক্রেডিট কার্ডের জন্য এলিজিবল করবে না। কারন ক্রেডিট লিমিটটি আপনি প্রতি মাসে যেমন স্যালারি পান, তার ওপরে ভিত্তি করেই দেওয়া হয়ে থাকে।

ক্রেডিট কার্ড কি? ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো

ক্রেডিট কার্ডটি পাওয়ার পরে সেটা আপনি যেকোনো জায়গায় পেমেন্ট করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন যেখানে পেমেন্ট মেথড হিসেবে ক্রেডিট কার্ড অ্যাকসেপ্ট করা হয়। আপনি ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহার করে সারা মাসে যত জায়গায় যত অ্যামাউন্টের (অবশ্যই লিমিটের মধ্যে) পেমেন্ট করবেন, মাস শেষে আপনার সেই সব অ্যামাউন্ট ব্যাংক থেকে একটি বিল হিসেবে ইস্যু করা হবে।

তারপরে একটি নির্দিষ্ট টাইমের মধ্যে আপনাকে সেই বিলটি ব্যাংককে পরিশোধ করতে হবে। এই টাইম লিমিট বিভিন্ন ব্যাংকের পলিসি অনুযায়ী বিভিন্নরকম হতে পারে, তবে সাধারন ১০-১৫ দিন হয়ে থাকে। আর এই মাসিক বিল পরিশোধ করলেই আপনাকে আবার পরের মাসের ক্রেডিট লিমিট দেওয়া হবে।

আপনার ক্রেডিট লিমিট যদি হয় ৫০ হাজার টাকা, আর আপনি যদি ৩৫ হাজার টাকা খরচ করেন, তাহলে বিল ইস্যু হওয়ার নির্দিষ্ট টাইমের মধ্যে সেই ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেই আবার পরবর্তী মাসের জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা ক্রেডিট লিমিট পেয়ে যাবেন।

ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো

ক্রেডিট কার্ডের সাহায্য নিয়ে আপনি যেহেতু বিল পে করবেন, তাই এর সুবিধা ভোগ করার জন্য বা এটি নিতে কিছু কাজ আপনাকে করতে হবে।

  • প্রথমেই যেকোনো ব্যাংক এ গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। যদি, অ্যাকাউন্ট থাকে তাহলে, খোলার দরকার নেই।
  • এরপর সেখনে নির্দিষ্ট পরিমান কিছু অর্থ (টাকা) জমা করতে হবে।
  • ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে ক্রেডিট কার্ডের জন্য।
  • এরপর তারা আপনার আয়ের উৎস জানতে চাইবেন। আপনার কিছু যোগ্যতা চেক করবে।
  • এরপর কিছু কাগজপত্র বা ডকুমেন্টস জমা দেয়ার মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড নিতে পারবেন।

ক্রেডিট কার্ডের জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন

  • ছবি
  • NID কার্ড
  • জন্ম নিবন্ধন পত্রের ফটোকপি।
  • TIN – টি আই এন সার্টিফিকেট
  • পাসপোর্ট কপি/ড্রাইভিং লাইসেন্স/অনান্য
  • আপনি যদি ব্যবসায়ী হন তবে ট্রেড লাইসেন্স, ম্যামোরেন্ডার অব অ্যাসেসিয়েশন এর ৩ মাসের ব্যাংক ট্রানজেকশন স্টেটমেন্ট দরকার হবে।
  • আর আপনি যদি কোনে চাকরি করে থাকেন তাহলে স্যালারি স্লিপ/পে-স্লিপ/স্যালারি সার্টিফিকেট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, ৩ মাসের ব্যাংক ট্রানজেকশন স্টেটমেন্ট দরকার হবে।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম

যে কোম্পানি ক্রেডিট কার্ড প্রদান করে, সে কোম্পানি যখন (বিশেষ করে ব্যাংক বা ক্রেডিট ইউনিয়ন) সে ক্রেডিট কার্ড গ্রহন করে তখন তারা ব্যবসায়ীদের সাথে এক ধরনের চুক্তিতে প্রবেশ করেন। ক্রেডিট কার্ড নগদ টাকার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

১. ক্রেডিট কার্ড অ্যাক্টিভ করা

যখন কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে আপনাকে ক্রেডিট কার্ড দেবে, তখন আপনার সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডটিকে অ্যাক্টিভ করা। কেননা ক্রেডিট কার্ড যদি অ্যাক্টিভ করতে না পারেন তাহলে, আপনি কখনোই ক্রেডিট কার্ড থেকে পে করতে কিংবা কোনো প্রকার লেনদেন করতে পারবেন না।

২. পিন নম্বর সেট করা

একটি ক্রেডিট কার্ড অ্যাক্টিভ করার পরে আপনাকে একটি পিন নাম্বার সেট করতে হবে। পিনটি হতে হবে চার ডিজিটের অর্থাৎ চারটি সংখ্যার। এই পিন নম্বরের সাহায্যেই আপনি লেনদেন করতে পারবেন।

৩. ক্রেডিট কার্ডের গোপনীয়তা সম্পর্কে সচেতন থাকুন 

আপনারা যারা বিকাশ, নগদ, রকেট এগুলো ব্যবহার করেন, তারা নিশ্চয়ই নিজেদের পিনকোড কাউকে বলেন না! কারণ এতে আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যেতে পারে। এভাবে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা অনেক টাকা আত্মসাৎ করে ফেলে।

ক্রেডিট কার্ড কি? ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো
ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো

এছাড়া, ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে আরও কিছু তথ্য লুকায়িত রাখতে হয়। সাধারনত কিছু স্ক্যামিং ওয়েবসাইট আছে যারা কোনো কারণে বা বিনা কারণে আপনার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমীহ চেয়ে বসবে। এদেরকে কখনোই তথ্য দেবেন না। এটা তারা প্রতারণা করার জন্য করে থাকে। বিশেষ করে কার্ডের পিছনে যে কার্ডের নিরাপত্তা কোড থাকে সেটা ভুলেও দিবেন না।

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা

দ্রুত লেনদেনঃ ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দ্রুত লেনদেন। ক্রেডিট কার্ড হাতের কাছে থাকায় যেকোনো অর্থনৈতিক লেনদেন মুহূর্তেই সম্পন্ন করা সম্ভব । ধরুন, রাস্তায় হাঁটার সময় আপনার মনে হলো, কোনো একটি পণ্য কেনা প্রয়োজন। কিন্তু সেই মুহূর্তে আপনার হাতে পর্যাপ্ত টাকা নেই।

আপনার যদি একটি ক্রেডিট কার্ড থেকে থাকে, তাহলে টাকা নিয়ে আপনার চিন্তা না করলেও চলবে। কারণ, আপনি চাইলেই সেই ক্রেডিট কার্ডটি ব্যবহার করে, আপনার কাঙ্খিত পণ্যটি কিনে ফেলতে পারেন।

ঋণের সুবিধাঃ কিছু কিছু কার্ড আপনাকে ঋণের সুবিধা প্রদান করবে। বিশেষ করে বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে শূন্য শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হয়। আর প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যাংককে প্রদান করা লাগে। কিছু কিছু ব্যাংকে আবার অনেক কম সুদের হারে ঋণ দেওয়া হয়। এটিও একদিক দিয়ে ব্যবহারকারীর উপর ভালো প্রভাব ফেলে। ব্যবহারকারী বাড়তি খরচের বোঝা এড়াতে সময়মতো ঋণ শোধ করে থাকেন। যে কারণে তার কোনো বকেয়া থাকেনা।

পড়তে পারেন:- EBL Aqua Master Card কিভাবে পাওয়া যাবে

ব্যয়ের সঙ্গে আয়ঃ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে ব্যবহারকারী এই সুবিধাটিও পেয়ে থাকেন। ক্রেডিট কার্ড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রায়ই কিছু অফার দিয়ে থাকে। যেমন, “ক্যাশব্যাক অফার” অথবা “স্পেশাল ডিসকাউন্ট”। এই অফারগুলো দেওয়া হয় আপনার ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে। আপনি যত বেশি ব্যয় করবেন, ততবেশি এই অফারগুলো গ্রহণ করতে পারবেন। এতে করে আপনার ব্যয়ের সাথে আয়ের রাস্তাটাও সহজ হয়ে যায়।

খরচের হিসেব রাখাঃ ক্রেডিট কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান আপনার প্রত্যেকটি লেনদেনের হিসেব রাখে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আপনার করা যেকোনো লেনদেনের সময়, স্থান, পরিমাণ ইত্যাদি সকল প্রকার তথ্যই সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকে। এ কারণে আপনি নিজের পরিকল্পনা মাফিক খরচ করতে পারেন।

কিস্তিতে পণ্য কেনাঃ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আপনি দামী বিভিন্ন পণ্য কিস্তিতে কেনার সুযোগ পাবেন। যেসব পণ্যের দাম অনেক বেশি, সেসব পণ্য দীর্ঘ মেয়াদে ছোট ছোট কিস্তিতে নেওয়ার সুযোগ করে দেয় ক্রেডিট কার্ড।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অসুবিধা

  • এতে মানুষের খরচ করার পরিমাণ বেড়ে যায়।
  • কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করলেও বা না করলেও বাৎসরিক এক প্রকার চার্জ প্রদান করতে হয়।
  • সুদের কবলে পড়তে হয়, যা বিব্রতকর।
  • বেশীরভাগ ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক একটা ফি আছে এছাড়াও কিছু চাঁদা বিভিন্নভাবে প্রযোজ্য হয় যেমন, দেরীতে পরিশোধের ফি, ব্যালান্স ট্রান্সফার ফি, ওভারড্রাফট ফি ইত্যাদি।

সত্যি বলতে সবকিছুর মতোই ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধা দুটই আছে। এখন এটা সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করে আপনি কিভাবে তা ব্যবহার করবেন। খরচের ব্যক্তিগত অভ্যেস, মাসিক চাহিদা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে আপনার জন্য যা উপযুক্ত হয় তাই ব্যবহার করতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button