খাসি বা বলদ কোরবানি করলে কোরবানি হবেনা

ইসলামি বিধান মতে সর্বমোট ছয় ধরনের পশু দিয়ে কুরবানি করা যায়। আর তাহলো- উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। এ পশুগুলোকে সুনির্দিষ্ট কিছু দোষ বা খুঁত থেকে মুক্ত থাকতে হবে। কুরবানির জন্য পশুগুলো অবশ্যই সুস্থ, সুন্দর ও পরিপুষ্ট হওয়া চাই।
কেননা কুরবানি আল্লাহ তাআলার প্রিয় বান্দাদের আরো প্রিয় হওয়ার ইবাদত। এটি সামর্থবান প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য আবশ্যক কর্তব্য। কুরবানির আবশ্যকীয় বিষয় হলো সুন্দর, সুস্থ ও হৃষ্টপুষ্ট পশু। যা দিয়ে আত্মত্যাগের অন্যতম ইবাদত কুরবানি আদায় করা হয়।

 

পবিত্র কোরআনুল কারীমে এরশাদ করেন ঃ
ﻭﻻﺿﻠﻨﻬﻢ ﻭﻻﻣﻨﻴﻨﻬﻢ ﻭﻻﻣﺮﻧﻬﻢ ﻓﻠﻴﻐﻴﺮﻥ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ — ﻭﻣﻦ ﻳﺘﺨﺬ ﺍﻟﺸﻴﻄﻦ ﻭﻟﻴﺎ ﻣﻦ ﺩﻭﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻘﺪ ﺧﺴﺮ ﺧﺴﺮﺍﻧﺎ ﻣﺒﻴﻨﺎ
‏( ١١٩ )
যার উপর আল্লাহ অভিশম্পাত করেছেন এবং সে বলেছে (শয়তান বলেছে )শপথ রইল, আমি তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে কিছু নির্দিষ্ট অংশ অবশ্যই নেবো । টীকা//তাদেরকে আমার অনুগত করবো!
খাজাইনুল ইরফানঃ ১৯০পৃষ্ঠা .সুরা নিসা, আয়াত ১১৯

কুরবানি আল্লাহর জন্য আত্মত্যাগের অনন্য নিদর্শন। সুতরাং নিখুঁত ও দোষবিহীন পশু দ্বারা কুরবানি আদায় করতে হবে। এমনকি কুরবানির পশু গৃহপালিত হতে হবে।
– জংলি পশু দিয়েও কুরবানি করা যাবে না, যার মধ্যে জংলি ভাব রয়ে গেছে। যদিও জংলি পশুর গোশত হালাল; কিন্তু কুরবানির ক্ষেত্রে কোনো জংলি পশু দিয়ে কুরবানি করা বৈধ নয়।
– আবার হরিণ দ্বারাও কুরবানি দেয়া যাবে না। যদিও হরিণের গোশত হালাল। চাই তা জংলি হোক কিংবা গৃহপালিত হোক।

যারা খাঁসী কোরবানী উত্তম বলেন


শয়তান বলেছে, আমি নিশ্চয়ই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ছারবো এবং নিশ্চয় তাদের মধ্যে অসৎ বাসনা সৃষ্টি করবো এবং অবিশ্যই তাদেরকে নির্দেশ দিবো । অতঃপর তারা আল্লাহর সৃষ্ট বস্তু গুলোকে বিকৃত করবে এবং যে আল্লাহকে ছেড়ে শয়তান কে বন্ধু রুপে গ্রহণ করেছে সে সুস্পষ্ট ক্ষতির মধ্যে পতিত হবে।
হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ পশু কুরবানি করতে নিষেধ করেছেন যার কানের একদিক কাটা বা গোড়া কাটা বা যার কান কাটা বা যার কানে ছিদ্র আছে এবং যার কান মূল থেকে কাটা।’ (নাসাঈ)

এখন প্রশ্ন হল যে, পশুর সামান্য পরিমাণ কানে ছিদ্র থাকলেও তা দিয়ে কুরবানী হবে না। খাসির মাঝে যে ক্ষোত গুলি রয়েছে তা হলঃ খাসিতে পুরুষত্ব নাই, খাসি বংশ বৃদ্ধি করতে অক্ষম।
এখন আল্লাহ সৃষ্টি করছেন পাঠা মানুষ তাকে খাসি করে দিল ।অর্থাৎ শয়তানে অনুসারী হল । কোরবানির পশু হবে নিখুঁত খাসিতে খুঁত। তাই খাসি -বলদ কোরবানি নিষেধ।

আপনি যতই বলেন, পাঠাকে জংলি ভাব থেকে দূর করতে তাকে খাসি করা হয় এবং খাসির মাংস খুব সুস্বাদু কিছুক্ষণের জন্য হলেও আমি আপনার যুক্তি মেনে নিলাম। কিন্তু কোরআন ও হাদিসের আলোকে আপনি চিন্তা করেন কোন ধরনের কোন জংলি পশু দিয়ে কুরবানী হবে না, কিন্তু পাঠা গৃহপালিত পশু মানুষ লালন পালন করে খুব যত্নসহকারে বড় করে তোলে। যেখানে আল্লাহর সৃষ্ট বস্তুকে বা প্রাণীকে পরিবর্তন করা হচ্ছে সেখানে আপনি যতই যুক্তি দাঁড় করান না কেন তা কখনোই ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামে বলা আছে, হরিণ কুরবানী নিষেধ কেননা এটি জংলি পশু। অথচ সবচাইতে সুস্বাদু মাংস হরিণের। তাই বিচার-বিবেচনা আপনাদের। নিজেকে প্রশ্ন করুন এবং নিজের মন থেকেই উত্তর খুঁজে নিন তাহলেই পেয়ে যাবেন ইসলামের পরিপূর্ণতা ।