ই-কমার্স প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করার সহজ কৌশল

প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি

আপনি কি আপনার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করার কথা ভাবছেন? তাহলে যেকোনো ধরণের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভালো মানের পণ্যসমূহ উপস্থাপনে ব্যবসায়ের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই পণ্যসমূহ তুলে ধরতে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির গুরুত্ব অত্যাধিক।

সাধারণ তোলা ছবি আর ইকমার্স বিজনেসের জন্য তোলা প্রোডাক্টের ছবির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল একটি ব্র্যান্ডের গ্রহন যোগ্যতা। আমাদের মস্তিষ্কে তথ্য প্রবাহের ৯০% হল দৃষ্টিলব্ধ বিষয়। তাই ইকমার্স বিজনেসে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য দৃশ্যমান কনটেন্ট হিসেবে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির স্থান সবার প্রথমে।

প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি
প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি

এই পদ্ধতিতে কাস্টমার প্রোডাক্টের একটি ছবিতেই বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে সেই প্রোডাক্ট দেখতে পায়। ছবিটি বিভিন্ন এঙ্গেলে অটোমেটিক রোটেট হতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এটি ম্যানুয়ালি রোটেট করার সুবিধাও থাকে।

প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি

পণ্য বিক্রি করার আগে, সেই পণ্যসমূহ আপনি আলাদা আলাদা করে ছবি তুলে ধরতে হবে। তবে ছবি তোলার ক্ষেত্রে লক্ষ্যে রাখবেন, আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড যাতে সাদা হয় এতে আপনার পণ্যসমূহ সঠিকভাবে বুঝা যায়। ফলের প্রোডাক্টের ছবি দেখার সাথে সাথে, ক্রেতা সেই পণ্যের ভিজিওলাইজ করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ

শুটিং করার ক্ষেত্রে, খেয়াল রাখতে হবে রং, সাইজ, প্রডাক্ট সম্পর্কে গ্রাহকদের যাতে সঠিক তথ্য প্রদান করা হয়ে থাকে। ছবিটিকে সুন্দরভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে, লক্ষ্য রাখতে হবে যে, সুন্দর লোকেশনের পাশাপাশি ছবিতে যাতে ন্যাচারাল লাইটের উপস্থিতি বজায় থাকে। তার জন্য আপনার প্রয়োজন হতে পারে একটি ক্যামেরা, একটি ট্রাইপড।

তবে প্রোডাক্ট  ফটোগ্রাফি করার ক্ষেত্রে লাইটের সর্বোচ্চ উপস্থিতি জোরালো রাখতে হবে। মনে রাখবেন, স্বল্প আলোতে ছবি তোলা বেশ ক্ষতিকর। তাই একটি আকর্ষণীয় ছবি তোলার ক্ষেত্রে, আপনাকে অবশ্যই কৃত্তিক লাইটের সাহায্য নিতে হবে।

প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করার কৌশল

প্রফেশনালদের দিয়ে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করাই ভালো । কিন্তু আপনার বাজেট যদি সীমিত হয়, তবে চাইলে আপনি ঘরে বসে নিজ মোবাইল দ্বারা প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করে ফেলতে পারেন। কিভাবে করবেন সে বিষয়ে কিছু টিপস শেয়ার করছি।

প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করার কৌশল
প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি

টিপস ১: আপনার মোবাইল ফোনটির ক্যামেরা রেজুলেসন ভালো হতে হবে, ৮ মেগা পিক্সেলের নিচে কোনোভাবেই নামা যাবে না। ছবি তোলার সময় ফোকাস লক করে নিবেন।

টিপস ২: ট্রাইপোড ব্যবহার করবেন, এতে হাতের কাঁপুনি হলেও বা হরাইজেনটাল ও ভারটিকাল লাইন সমান থাকবে।

টিপস ৩: ন্যাচারাল লাইট অথবা আর্টিফিশিয়াল লাইট যে কোনো একটি ব্যবহার করবেন। একসাথে দুটি কখনোই নয়।

টিপস ৪: প্রোডাক্টের ছায়া যেন না পড়ে সেজন্য ন্যাচারাল লাইটের ছায়া দূর করতে  Standalone Bounce Card ও আর্টিফিশিয়াল লাইটের ছায়া যেন না পড়ে তার জন্য Flashbulb Bounce Card ব্যবহার করতে পারেন।

টিপস ৫: ড্রপবক্স বা প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির জন্য বিশেষ একটি বক্সের মধ্যে ছবি তোলার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডের ফ্লোর ও ওয়ালের জয়েন্টে একটি লাইন দেখা যায়। এটি কোন প্রকার এডিটিং ছাড়ায় দূর করতে বাঁকানো ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করতে পারেন।

কম্পিউটারের জন্য ফটো এডিটিং সফটওয়্যার

একটি ছবিকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হলে ছবি এডিটিং এপ্লিকেশন টুলসের বিকল্প নেই। চলুন তাহলে জনপ্রিয় কিছু ছবি এডিটিং এপ্লিকেশন সম্পর্কে জেনে নেই

1. GIMP 

আপনি যদি অর্থ প্রদান না করে, বিনামূল্যে আপনার ছবিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে চান তাহলে, আপনি নির্ধিধায় বেছে নিতে পারেন এই ফটো এডিটিং এপ্লিকেশনকে। এটি একটি ওপেন সোর্স ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার টুলস। উইন্ডোজ থেকে শুরু করে ম্যাক, লিনাক্স সকল ধরণের এপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যায়।

ডাউনলোড

2. Adobe Photoshoot

মূলত একটি জনপ্রিয় ফটো এডিটিং এপ্লিকেশন হল Adobe Photoshop। এর অসখ্য ফিচার, নানা ধরণের ক্রিয়েটিভ আইডিয়া গ্রাহকদের সামনে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে, কোন ধরণের সীমা থাকে না। এর বেসিক এডিটিং টুলসের মাধ্যমে যেকোন ছবিকে অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।

ডাউনলোড

প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করার কৌশল
প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করার কৌশল

3. PhotoPea

photopea ব্যবহার করার জন্য ডাউনলোড বা ইন্সটল করতে হবে না। বরং ব্রাউজার থেকে ব্যবহার করতে পারবেন। এটা মূলত Adobe Photoshop এর বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন। এটা একদম ফ্রি।

ওয়েবসাইট

4. Adobe Lightroom

আপনি যদি Adobe এর কম্পিউটার ভার্সনের পরিবর্তে এই এপ্লিকেশনটি ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনি নিরাশ হতে হবে। কারণ Adobe Photoshop এর মতো এই এপ্লিকেশন এর তেমন আহামরি কোন ফিল্টার না থাকলেও এর রয়েছে অসাধারণ সব টুলস, যা আপনার ছবিকে আকর্ষনীয় করতে সাহায্য করবে।

ডাউনলোড

ছবি তুলতে কিভাবে পোজ দিবেন

এতো গেল ইকমার্স প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির যত কথা, কিন্তু আমরা নিজেরাও ছবি তুলতে অনেক পছন্দ করি। ছবি তোলার জন্য পোজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছবি ভালো বা খারাপ হয় পোজের কারনে।

আজকের আলোচনার মাধ্যমে, প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। ছবির মাধ্যমে নিজের ব্যবসার অবস্থা পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে আজই ফলো করুণ প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফির কৌশলগুলো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button