রমজানে রোজার নিয়ত কতটা জরুরি

রমজানে রোজার নিয়ত কতটা জরুরি

রমজান শুরু হলে অনেকেই রোজার নিয়ত নিয়ে চিন্তিত থাকেন। অনেকে মনে করেন, রোজার নিয়ত মনে মনে করলেই হয়। সমাজে যে আরবি নিয়ত প্রচলিত আছে তা বলতে হয় না। আবার অনেকে মনে করেন রোজার নিয়ত মনে মনে নয়, আরবি নিয়ত বলতে হয়। নইলে কমপক্ষে বাংলাতে এতটুকু বলতে হয় যে, আমি আগামীকাল রোজা রাখার নিয়ত করছি।আবার কেউ কেউ মনে করেন, রোজার জন্য মৌখিক নিয়ত জরুরি নয়; বরং অন্তরে রোজা রাখার সংকল্প করাই যথেষ্ট। এমনকি রোজার উদ্দেশ্যে সেহরি খেলেই রোজার নিয়ত হয়ে যায়। সুতরাং এ কথা চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই যে, মুখে রোজার নিয়ত না করলে রোজা হবে না। শায়েখ নাজমুদ্দিন নসফি রহমতুল্লাহি আলাইহির মতে রমজানে সেহরি খাওয়ার দ্বারা নিয়ত আদায় হয়ে যায়। অন্য রোজার ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য হবে। 

মুসলমানের উপর ধার্যকৃত ১১৭ ফরযের মধ্যে ৬০টি ফরয রমজান মাসেই ধার্য করা হয়েছে। রমজানের রোজা রাখা যেমন ফরজ তেমনি রোজার জন্য নিয়ত করাও ফরজ এই মোট ৬০টি ফরয।

মুসলমানদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে। হিজরতের দেড় বছর পর স্বয়ং আল্লাহ তাআলা রোজা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমারদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে- যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)

রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। বিপুল সওয়াব ও অনুকম্পায় ঋদ্ধ করে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে আল্লাহ তাআলা তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯০১; তিরমিজি, হাদিস : ৬৮৩)

মহান আল্লাহ্‌ তা,আলার সন্তুষ্টি লাভের আশায় এক মাস সিয়াম সাধনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসমানরা । ‘সাওম’ শব্দের অর্থ বিরত থাকা; এর বহুবচন হলো ‘সিয়াম’। ফারসি, উর্দু, হিন্দি ও বাংলায় সাওমকে ‘রোজা’ বলা হয়। রোজা রাখা ও রোজা ভেঙে ইফতার করার জন্য রয়েছে অলাদা দোয়া।

অনলাইনে আয় করতে আরও পড়ুন

·               কিভাবে বিকাশে টাকা আয় করা যায়
·             মোবাইল দিয়ে টাকা আয় বিকাশে পেমেন্ট
·             কোন গেম খেলে টাকা আয় করা যায় 
·              গেম খেলে টাকা আয় বিকাশে পেমেন্ট 

আরবিতে রোজার নিয়ত-

– نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم
উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন সাহরি রমাজানাল মুবারাক ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু তা,আলা ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় পবিত্র রমজানের নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (রোজার নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের দোয়া –

ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোয়া পড়ে ইফতার করা প্রত্যেক রোজাদারদের জন্য সুন্নত। কেননা আমাদের প্রিয় নবী ইফতার করার পূর্ব মুহূর্তে এই দোয়া করতেন। তাই এই দোয়াকে ইফতারের দোয়া বলেও অভিহিত করা হয়।

আরবি নিয়ত- اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ وَ اَفْطَرْتُ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِيْمِيْن

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্বের মাধ্যমে ইফতার করছি তুমি আমার রোজা কবুল কর।

আল্লাহ তায়ালার নির্দেশিত মতে, মাহে রমজানের ফরজ রোজা শেষে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশিত আইন মেনেই রোজার পরিসমাপ্তি করলে ও রহমতের আশা নিয়ে ইফতার আরম্ভ করলে আল্লাহ তায়ালা তার মনের নেক ভাসনা পুরন করেন। সবশেষে “বিসমিল্লাহি ওয়া’আলা বারাকাতিল্লাহ” বলে ইফতার করতে হয়।

রোজার নিয়ত বা রোজা ভঙ্গের কিছু কারণ-

ফরজ রোজার নিয়ত সাহরির পর পরই রাত বাকি থাকতেই করা উত্তম। হজরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না তার রোজা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না।’ (আবু দাউদ)

দিনের দ্বিপ্রহরের আগে রোজার নিয়ত করা না হয়ে থাকলে সেই রোজা বিশুদ্ধ হবে না। এর পরও রোজাহীন অবস্থায় দিনের বাকি সময়ে পানাহার করা রমজানুল মোবারকের সম্মানের বিরোধী বলে তা জায়েজ নয়।’ (ইমদাদুল ফাতাওয়া)

শেষরাতে সেহরি খাওয়া এবং রোজার নিয়ত করে নেয়ার পর রাত থাকা সত্ত্বেও কিছু খাওয়া দাওয়া বা স্ত্রী সহবাস করা না জায়েয নয়। তবে সুবহে সাদিক হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ হলে এ কাজগুলো করা উচিত নয়। অবশ্য এ অবস্থায় পানাহার করলে রোজা শুদ্ধ হবে। 

ইফতারের মাধ্যমে পিপাসা দূর হয়, শিরা-উপসিরা সিক্ত হয় এবং যদি আল্লাহ চান রোজার সাওয়াবও স্থির হয় ‘ (আবু দাউদ, মিশকাত)

অনলাইনে আয় করতে আরও পড়ুন

·               কিভাবে বিকাশে টাকা আয় করা যায়
·             মোবাইল দিয়ে টাকা আয় বিকাশে পেমেন্ট
·             কোন গেম খেলে টাকা আয় করা যায় 
·              গেম খেলে টাকা আয় বিকাশে পেমেন্ট 

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাহরির পর নিয়ত করা, ইফতারের আগে তাওবা-ইসতেগফার করা, ইফতারের সময় দোয়া পড়া এবং ইফতারের পর শোকরিয়া আদায় করে দোয়া পড়ার তওফিক দান করুন।প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমান নারী-পুরুষের জন্য রোজা রাখা ফরজ। রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য ও তাকওয়া লাভে ধন্য হয়।

%d bloggers like this: