করোনার হাসপাতাল উধাও !!

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অস্থায়ীভাবে বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ‘ফিল্ড হাসপাতাল’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। সোয়া দুই লাখ বর্গফুট জায়গায় দুই হাজার বেডের এই বৃহৎ করোনা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছিলেন গণমাধ্যমকে।

দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাজধানীর বসুন্ধরা কোভিড-১৯ হাসপাতাল। একইসাথে বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকও বাতিল করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। দেশে নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২ হাজার শয্যার এই অস্থায়ী হাসপাতালটি গড়ে তোলা হয়েছিল।

মোদিকে হটাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ভিপি নূর – VP Nur Latest News

VP Nur Latest News : আগ্রাসন বিরোধী দেশপ্রেমিক জনতার উদ্দেশ্য বার্তা ; হঠাও মোদি বাঁচাও দেশ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।

নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর আটকানোর উদ্দেশ্য নিয়ে সকালে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে এক আন্দোলন মিছিলে পুলিশ জনগণের উপর গুলিবর্ষণ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তখন বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের প্রধান আহবায়ক ভিপি নূূরুল হক নূর গুলিবিদ্ধ হন।

আহত অবস্থায় নূরুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও আরো অনেকে আহত হয়েছেন।

আহ্্বায়ক ভিিিি নূরুল হক নূূরপিপপ

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ‘গুজরাটের কসাই ‘খ্যাত নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার ২৫ শে মার্চ ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে ‘ বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ ‘।

উক্ত কর্মসূচিতে আগ্রাসন বিরোধী অসাম্প্রদায়িক চেতনার সকল দেশপ্রেমিক জনগণকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।

স্থান: মুক্তাঙ্গন, পল্টন (গুলিস্তান জিরো পয়েন্টের পাশে)
সময়ঃ ২৫ শে মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা। ( নূূূরুর ডাক ) (more…)

করোনার টিকা দেওয়ার অসচেতনতার জন্যই বাড়ছে মৃত্যু

বুধবার 78,৮৮১ জনের করোনা টিকা দেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ ৩৮ টি ব্যবসায়িক দিনে কোভিড -১৯ জাবের প্রথম ডোজ পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি লোককে দিয়েছিল। ২৭ শে জানুয়ারী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করার পরে,করোনা টিকা সরকার ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী টিকাদান অভিযান শুরু করেছিল, শুক্রবার এবং সরকারি ছুটির দিনে ইনোকলস স্থগিত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে আরও নির্দিষ্ট লোকের উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে টিকা দেওয়া উচিত ছিল।

তারা সাম্প্রতিক দিনগুলিতে সরকারি সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং কার্যত অস্তিত্বহীন সচেতনতামূলক প্রচারণার কম সংখ্যক করোনা টিকা বা ভ্যাকসিনকে দায়ী করেছে। বুধবার অবধি ৫০,৬৯৯,০৯৯ জনের মধ্যে ইনোকুলেশন করা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতরের জেনারেল (ডিজিএইচএস) অনুযায়ী ৩,১৬৮১,৯৯৪ জন পুরুষ এবং ১,৯০০,০,৫ জন মহিলা ছিলেন। কমপক্ষে ৯২৩ জন জ্যাব পাওয়ার পরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা নাগাদ ৬৮৭৮৯৯ জন নাগরিক করোনা টিকা দেওয়ার জন্য সাইন করেছেন। প্রতিদিন প্রায় ১৩৩,৩৯6 জনকে টিকা দেওয়া হয়েছিল এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা প্রতিদিন ৩৫০,০০০ লোককে টিকা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

করোনা টিকা

প্রথম দশ মিলিয়ন লোককে টিকা দিতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে আট দিন সময় লেগেছিল। দেশটি পরের চার দিনের মধ্যে আরও মিলিয়ন লোককে টোকা দিয়েছিল। তারপরে, তবে, বাংলাদেশের টিকা অভিযান ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে।

দশ মিলিয়ন লোকের পরবর্তী তিনটি ক্লাস্টার তাদের প্রথম ডোজটি কোভিড -19 ভ্যাকসিনের যথাক্রমে ছয়, আট এবং বার দিনের মধ্যে প্রদান করা হয়েছিল। ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক সংখ্যক টিকা দেওয়া হয়েছে (1,580,172) এবং বরিশাল সর্বনিম্ন (227,074) দেখেছে। ডিজিএইচএস প্রথম এই অভিযানের প্রথম মাসে ছয় মিলিয়ন লোককে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

ইনোকুলেশন পরে সংক্রমণঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, কোভিড -১৯ মামলায় সাম্প্রতিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরেও এই টিকাদান অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আগে থেকেই বলেছিলেন যে ভ্যাকসিন পাওয়ার পরেও সংক্রমণ হতে পারে এবং সবাইকে সেই অনুযায়ী কাজ করতে বলেছিলেন।

বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট ডাঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ভ্যাকসিন পাওয়ার পরে জনগণের একটি সাধারণ ধারণা ছিল যে তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দরকার নেই। “প্রথম ডোজ অসুস্থতার তীব্রতা হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে তবে এটি কোনও ব্যক্তিকে সংক্রামিত হতে 100% রোধ করে,” তিনি বলেছিলেন। এই অধ্যাপক যোগ করেছেন, “কোনও ব্যক্তি তার দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়ার পরে কয়েক দিন পরে অ্যান্টিবডিগুলির বৃদ্ধি নির্ধারণ করা যেতে পারে”।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কোবিড -১৯ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজটি এপ্রিল থেকে শুরু করবে। টিকা অভিযানের প্রশংসা করে ড। নজরুল বলেন, ক্ষমতা বাড়ানো উচিত ছিল এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করেন। “জনগণ ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবধান না থাকলে লক্ষ্য সংখ্যাটি পূরণ করা যেত,” তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

 

করোনা টিকা নিয়ে রক্ত দেওয়া যাবে কি

চলছে করোনার টিকাদান কর্মসূচি। করোনার টিকা গ্রহণের পর কি রক্ত দান করা যাবে তাই নিয়ে মানুষের মনে অনেক শঙ্কা। তাহলে আসুন জেনে নিই করোনার টিকা গ্রহণের পর কি রক্ত দেওয়া যাবে কি না ?

যেহেতু করোনার টিকায় কোনো জীবিত ভাইরাস ব্যবহৃত হয়নি, তাই এটি নেওয়ার পর রক্তদানে বাধা নেই। ফাইজারের টিকায় এমআরএনএ ব্যবহৃত হয়েছে, আর কোভিশিল্ড (যা আমাদের দেশে দেওয়া হচ্ছে) তাতে নিষ্ক্রিয় ভাইরাসের প্রোটিন উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এগুলো দিয়ে রক্তদানে কোনো সমস্যা হবে না।

পরামর্শ দিয়েছেন— অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত, চেয়ারম্যান, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।

২ থেকে ২০০ বাস ও ৩০ কোম্পানির মালিক

স্বপ্নচারী ও বাস্তববাদী এক পুরুষ। স্টার লাইন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক। এ প্রতিষ্ঠানের নেপথ্য কারিগর হিসেবে শুরু থেকে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁরই চেষ্টা ও সাধনায় এর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশ ছাড়িয়ে পৃথিবীব্যাপী। যিনি ব্যবসাকে সেবার মানসিকতায় দেখতে অভ্যস্থ। আড়ালপ্রিয় এ মানুষটি নিজের ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের নানা অজানা কথা জানালেন আমাদের।
নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে সাবেক মন্ত্রী জাফর ইমাম ও তাজুল ইসলামসহ আমার মেঝো ভাই হাজী আলাউদ্দিন মিলে ‘স্টার লাইন’ নাম দিয়ে পরিবহণ ব্যবসা শুরু করেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ১৯৯৪ সালে ৪টি বাস দিয়ে চালু পরিবহণ ব্যবসায় তাঁরা ক্ষতির সম্মুখিন হলে ১৯৯৭ সালে এটি বন্ধ করে দেন। এ সময় ওই দুটি বাস দিয়ে ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে নতুন করে আমি পরিবহণ ব্যবসা শুরু করি। তখন আমি ঠিাকাদারি ব্যবসার সাথে জড়িত। পড়ালেখা বাদ দিয়ে স্টার লাইনকে ঢেলে সাজাতে মনোনিবেশ করি। এর আগে ভাইদের ক্ষতির কথা মাথায় রেখে নতুন আইডিয়া নিয়ে ভাবতে থাকি।
স্টার লাইন হবে সম্পূর্ণ ধুমপান-মুক্ত একটি পরিবহণ। এবং যাত্রাপথে নামাযের জন্য ১০ মিনিট বিরতির কথা মাথায় আসে। প্রথমে শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়লেও আমাদের অনঢ় অবস্থানের কারণে আমরা দেশে প্রথম ধুমপান-মুক্ত পরিবহণ চালু করি। পরবর্তীতে আমাদের গ্রুপকে আমরা ধুমপান-মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। আমরা কোন ধুমপায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেই না।
আমার বড় ভাই হাজী নিজাম উদ্দিন ১৯৮৫ সালে সৌদি গমন করেন এবং ১৯৮৮ সাল থেকে সৌদি আরবে আবাসিক হোটেল ব্যবসা করতেন। ব্যবসা শুরু করার পর তাঁর কাছে পুঁজি চাইলে প্রথমে অনীহা দেখান। পরে মায়ের অনুরোধে আমার জন্য টাকা পাঠান। এক বছরেই স্টার লাইন সুনাম অর্জন করে। পরের বছর ভাইয়ের দেয়া টাকা এবং সুনামের কারণে মর্গেজ ছাড়া ব্যাংক লোন নিয়ে আরো দু’টি গাড়ি চালু করি। এর পর প্রতি বছর দু-চারটি করে গাড়ি যোগ হতে থাকে। মেঝো ভাই হাজী আলাউদ্দিনের সাথে পরামর্শ করে শুরু থেকে ফেনী-ঢাকা রুটে ব্যবসা শুরু করি। পর্যায়ক্রমে ফেনী-চট্টগ্রাম, ফেনী-কক্সবাজার, ফেনী-খাগড়াছড়ি, সিলেট-চট্টগ্রাম, খুলনা-চট্টগ্রাম, বসুরহাট-ঢাকা, বারইয়ার হাট-ঢাকা রুটসহ ফেনী জেলার সবক’টি উপজেলা থেকে ঢাকা রুটে এ সার্ভিস চালু আছে। স্টার লাইন পরিবহণের অধীনে বর্তমানে দুই শতাধিক গাড়ী বিভিন্ন রুটে চালু আছে। ২০০৪ সালে স্টার লাইন পেট্টোল পাম্প ও সিএনজি পাম্প চালু মধ্যদিয়ে এটিকে গ্রুপে রূপান্তরের স্বপ্ন মাথাচারা দিয়ে ওঠে। এ গ্রুপের অধীনে বর্তমানে ৩০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
যেগুলো স্টার লাইন পরিবহণের মতই সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এখানে প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছে। গ্রুপ প্রতিষ্ঠার পর থেকে একে একে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে থাকে। ২০০৫ সালে স্টার মটরস নামে নতুন প্রতিষ্ঠান চালু করি। প্রতিষ্ঠানটি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানী করে থাকে। ২০০৬ সালে আরো ২টি সিএনজি পাম্প চালু করা হয়। একই বছর স্টার লাইন ফুডস এন্ড বেভারেজ, ২০০৫ সালে একটি ও ২০০৭ সালে আরেকটি সিএনজি পাম্প চালু করা হয়। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে স্টার লাইন ব্রিকস ফিল্ড’র দুটি ইউনিট প্রতিষ্ঠা পায়। ২০০৯ সালে স্টার লাইন অটোব্রিকস কারখানা চালু হয়। একই বছর স্প্রাউট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল নামে জেলার প্রথম ইংরেজী মাধ্যম স্কুল ও অটো রাইস মিল’র কার্যক্রম শুরু হয়। পরের বছর ২০১০ সালে স্টার লাইন মেজর ফ্লাওয়ার মিল, স্টার লাইন ফুড প্রোডাক্টস্ এ গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়। ২০১১ সালে স্টার লাইন প্রপার্টিজ লিমিটেড, মুড়ি, সেমাই ও নুডলস্ ফ্যাক্টরী নির্মিত হয়। ২০১২ সালের স্টার লাইন ট্রাভেলস এন্ড টুরস ও সাপ্তাহিক তাঁরা পত্রিকা চালু হয়। পরের বছর ২০১৩ সালে দৈনিক স্টার লাইন পত্রিকা প্রকাশনা শুরু করে। একই বছর স্টার লাইন ফিশারিজ’র কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৪ সালে স্টার লাইন প্যাকেজিং ও ২০১৫ সালে স্টার লাইন সুইটস্’র কার্যক্রম শুরু হয়। আমি আগেই বলেছি আমরা ব্যবসাকে সেবা হিসেবে বিবেচনা করি। পণ্যের মানের দিকে আমরা সব সময়ই সতর্ক থাকি।
আপনাদের দোয়ায় স্টার লাইন ফুড প্রোডাক্টস্ লিমিটেডের পণ্য দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের ১০ দেশে রপ্তানি হয়। আমাদের তৈরি স্টার লাইন সুইটস’র পণ্যও ভোক্তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। আমার পথ চলায় সব সময় ফেনীবাসী সাথে ছিল। কোন ধরনের বাধার সম্মুখীন হই নি। ভাগ্যই আমাকে এ পর্যন্ত এনেছে। আমি তখন ঠিকাদারি ব্যবসা করতাম। প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার হিসেবে সড়ক ও যোগাযোগ বিভাগের অনেকগুলো কাজ করেছি। আমার মনে আছে- এক বছরে ১২টি কাজ আমি পাই। ওই বছর দেশের যে জেলাতেই যাই, লটারিতে আমার নাম উঠতো। আমরা সব সময় সরকারী বিধি-বিধান মেনে ব্যবসা করে থাকি। আমাদের গ্রুপের সৎ-দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে স্টার লাইন গ্রুপ আজকের এ অবস্থানে পৌঁছেছে।
আমরা শ্রমিকদের সম্মান ও স্নেহ দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করিনি। সেবাই স্টার লাইন গ্রুপের ধর্ম। কেবলমাত্র ব্যবসা স্টার লাইন গ্রুপের লক্ষ্য নয়। মানুষের কল্যাণ ও সেবার জন্য এ গ্রুপ দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিজেকে ভাবতে গেলে ভালো লাগে। ১৯৯৮ সালের পর থেকে এ প্রতিষ্ঠান ছাড়া আমার মাথার মধ্যে অন্য কিছু স্থান পায় নি। রাত-দিন এ প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করেছি। মায়ের দোয়া ও ভাইদের সহযোগিতায় আজ আমি নিজেকে গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছি।
অন্যপক্ষ: আমরা জানি আপনি একজন কর্মঠ ও দৃঢ়চেতা মানুষ। কোন লক্ষ্য নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানে আত্মনিবেশ করেন? আমি কাজের লোক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি ১৮ ঘন্টা করে এ গ্রুপের জন্য কাজ করে চলেছি। আমি যে মুহুর্তে যে কাজটা করার দরকার, আমি সেটাই করি। যাকে দিয়ে করার দরকার, তাকে সাথে নিয়ে করি। আমার দ্বারা মানুষ যেন উপকৃত হয় সে চিন্তা মাথায় নিয়ে কাজ করি। আমি বিশ্বাস করি সততা, কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন ও কমিটমেন্ট রক্ষা করা সফলতার চাবিকাঠি। এ ক্ষেত্রে লেনদেনের কমিটমেন্ট ঠিক রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি রক্ষা করতে না পারলে ব্যবসায় সফল হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আমাকে মানুষ চিনুক এটা বড় কথা না। আমি সব সময় আমার কর্মকে চেনাতে চেষ্টা করেছি। অন্তরালে থেকে দেশের জন্য কাজ করায় একটা আনন্দ আছে। আমার পরিবারের সবাই আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছেন।
বিশেষ করে আমার মা-বাবা। আবার বাবাও একজন পরিবহণ ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর কর্ম আমাকে এ পেশায় উৎসাহ যুগিয়েছে। যে কোন কাজ শুরু করার আগে আমরা মাকে বলি। তিনি বলেন, আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করো, তোমরা ঠেকবে না। আমি নামায পড়ে দোয়া করবো। এছাড়া আমার ভাইয়েরা আমাকে সব সময় অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। এছাড়াও আমরা চার ভাই দুই বোনসহ মামা-চাচা, ভগ্নিপতি ও আত্মীয়-স্বজনরা আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। শিক্ষা প্রসারে আমরা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি। একটি কলেজ নির্মাণের কাজ চলছে। এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিতে একটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রক্রিয়ার কাজ চলছে।
আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য যা যা করা সম্ভব তা করবো ইনশা আল্লাহ। রাজনীতি নিয়ে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোন চিন্তা নেই। আমার মেঝো ভাই হাজী আলাউদ্দিন ফেনী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে রাজনীতির মাধ্যমে সমাজ সেবা করছেন। আমরা তাকে সহযোগিতা করছি। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর নেতৃত্বে ফেনীর উন্নয়নে আমরা তাঁর পাশে আছি ও থাকব। রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজ সেবা করা যায়। স্টার লাইন গ্রুপের মাধ্যমে আমি সেটা করার চেষ্টা করছি।
আমার শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি অনেক আনন্দের। সব সময় মায়ের কাছে থাকতাম। আমি ভালো ফুটবল খেলোয়াড় ছিলাম। একাধিকবার আমি সেরা খেলোয়াড় হয়েছি। মাছ ধরাও আমার নেশা। ফেনীর রাজা ঝি’র দিঘীতে বড়শি প্রতিযোগিতায় আমি প্রথম স্থান অর্জন করেছি। ১৯৯৮ সালে ২০ ফেব্রুয়ারি সালমা আক্তার বেলির সাথে সংসার জীবন শুরু করি। সংসার জীবনে আমি খুবই সুখি। আতেপ উদ্দিন, আহনাফ উদ্দিন ও আয়ান উদ্দিন নামে আমার তিন ছেলে নিয়ে ভালই দিন কাটছে। লোভ-লালসার উর্ধ্বে থেকে উদারতার মাধ্যমে ভালোবাসার বন্ধন তৈরী হয়। আমাদের ভাইদের মধ্যে ছোট খাটো ঝগড়া-ঝাটি হয়না যে এমন না। তখন আমার মা সবাইকে ডেকে মিলিয়ে দেয়। কখনো কখনো তিনি বলেন, তোমার বড় ভাইকে ডাকো খাওয়ার জন্য- তখন আর কোন মনোমালিন্য থাকে না।
তথ্যসূত্র: নতুন ফেনী।